শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর: চারতলা স্কুলভবন নির্মানকাজ হচ্ছে খালের বালু দিয়ে

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়,চট্টগ্রামের বাঁশখালীর উপকূলীয় ইউনিয়ন খানখানাবাদে অবস্থিত বি.বি. চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়ের চারতলা ভবন নির্মাণে স্থানীয় একটি খাল থেকে তুলে আনা বালু ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া, ইটসহ অন্যান্য নির্মাণসামগ্রীও নিম্নমানের বলে অভিযোগ করেছেন স্কুলটির জমিদাতা পরিবারের সদস্য, শিক্ষক এবং স্থানীয়রা। দেখা গেছে, ঢালাই দেওয়ার জন্য দেড় বছর ধরে কাঠের তক্তার সাহায্যে দাঁড় করিয়ে রাখা রডগুলোতে মরিচা পড়ে গেছে।

শিক্ষকরা জানান, বি.বি. চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়টি ১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত। বর্তমানে এর শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৫৩৪ জন। চলতি বছরে এ বিদ্যালয় থেকে ১১৫ জন নিয়মিত-অনিয়মিত শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে।

বিদ্যালয়ে দুটি পুরাতন ভবন থাকলেও তাতে শিক্ষার্থীদের যথাযথ সংকুলান না হওয়ায় ২০২০ সালে ৩ কোটি ৫৯ লাখ টাকা ব্যয়ে চারতলা ভবন নির্মাণকাজ শুরু হয়।

কিন্তু শুরুর দেড় বছরেও কাজের এক শতাংশও শেষ হয়নি বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। তার ওপর দীর্ঘদিন যাবৎ ঝড় বৃষ্টিতে ভিজে অধিকাংশ লোহার রডে মরিচা পড়ে গেছে।

শিডিউলে উন্নতমানের বালু ব্যবহারের জন্য নির্দেশ থাকলেও স্থানীয় বালু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কাছ হতে জলকদর খালের বালু আর নিম্নমানের ইট নিয়ে এসকল কাজ পরিচালনা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিদ্যালয়ের সকল জমিদাতা পরিবারের সদস্যরা।

স্কুলভবন নির্মাণকাজ ছবি-copyright-free-image-form-flickr.com
স্কুলভবন নির্মাণকাজ

জমিদাতা পরিবারের সদস্য শহীদ জাহান চৌধুরী খোকন বলেন, বিদ্যালয়সহ চার পাশে জায়গাগুলো আমাদের পরিবারের। ভবন করার সময় আমরা যে স্থান দেখিয়ে দিয়েছি সে জায়গায় করা হয়নি। তার ওপর বর্তমানে নানা অনিয়মের কাজ করছে ঠিকাদার। দীর্ঘ সময় ধরে লোহাসহ অন্যান্যা মালামাল পড়ে থাকায় মরিচা ধরেছে। পিলার ও অন্যান্য সেন্টারিংগুলো কাঠ দিয়ে না করে স্টিলের পাত দিয়ে করলে আরও মজবুত হতো।

বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক ছলিম উল্লাহ বলেন, কাজটা যত তাড়াতাড়ি হবে তত আমাদের জন্য ভালো হয়। কারণ বর্ষা মৌসুমের অধিকাংশ সময় বিদ্যালয়ের চারপাশ জলমগ্ন থাকে। শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয়। কিন্তু ২০২০ সালের এপ্রিলে কাজ শুরু হলেও এখন পর্যন্ত কাজের তেমন অগ্রগতি নেই। তার ওপর যে ইট-বালু মাঠে রয়েছে সেগুলো আমাদের মনঃপূত নয়।

বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আহমদ জিসান চৌধুরী বলেন, আমরা চাই যথাসময়ে এবং শিডিউল অনুসারে কাজ করবে ঠিকাদার। মরিচা পড়া রড আর নিম্নমানের ইট-বালু দিয়ে দিয়ে কাজ করলে সেটা আমরা মেনে নেব না।

ঠিকাদার শাহনেওয়াজ চৌধুরী এসব অভিযোগের বিষয়ে বলেন, যখন এ বিদ্যালয়ের নির্মাণ কাজ শুরু করি, তখন স্থানীয়ভাবে বালু-ইট সংগ্রহ করলেও পরে কিছু লোক আমাকে ইট-বালু সরবরাহ করতে চায়। তাদের কাছ থেকে নির্মাণসামগ্রী না নেওয়ায় তারা নানা ধরনের রটনা ছড়াচ্ছে। তা ছাড়া, নির্মাণসামগ্রীর দাম বেড়ে যাওয়ায় একটু সমস্যায় আছি।

বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইদুজ্জামান চৌধুরী বলেন, যথাসময়ে ও যথানিয়মে যাতে কাজ হয় সে ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

[শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর: চারতলা স্কুলভবন নির্মানকাজ হচ্ছে খালের বালু দিয়ে]

আরো জানুন:

কিউআইএসআই গুরুকুল: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গার্হস্থ্য অর্থনীতির ফল পুনঃনিরীক্ষার আবেদন শুরু

শিক্ষার অন্যান্য খবর সম্পর্কে জানুন:

প্রথম আলো: এসএসসির ব্যবহারিকের নম্বর ৩০ নভেম্বরের মধ্যে পাঠাতে হবে

কিউআইএসআই গুরুকুল সাইটটি ব্যবহার করায় আপনাকে ধন্যবাদ। আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে “যোগাযোগ” আর্টিকেলটি দেখুন, যোগাযোগের বিস্তারিত দেয়া আছে।

মন্তব্য করুন