সোনারগাঁয়ে শিক্ষা সফরের অভিজ্ঞতা

সোনারগাঁয়ে শিক্ষা সফরের অভিজ্ঞতা: শিক্ষা সফর মানুষের জ্ঞান বৃদ্ধি করার সাথে সাথে তার ভ্রমনের ইচ্ছা কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেই। শিক্ষা সফর বা ভ্রমণের মাধ্যমে মানুষ পৃথিবীর এবং নিজের দেশের বিভিন্ন স্থান ও সংস্কৃতি সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করে থাকে। কোন বিশেষ অঞ্চলের ভ্রমণের মাধ্যমে আমরা সে অঞ্চলের সংস্কৃতি ভাষা প্রাকৃতিক বৈচিত্র সহ সার্বিক বিষয়ে জ্ঞান লাভ করি। ভ্রমণ মানুষের জীবনের ক্লান্তি দূর করে মানসিক প্রশান্তি প্রদান করে। কিছুদিন আগে আমি সোনারগাঁয়ে শিক্ষা সফরে গিয়েছিলাম। আজ আমি সোনারগাঁয়ে শিক্ষা সফরের অভিজ্ঞতা বিষয়ে আলোচনা করব।

শিক্ষা সফরের ভূমিকা:

দূরে আত্মীয়-স্বজন বন্ধু-বান্ধব থাকলে তার বাড়িতে ঘুরতে যাওয়া ভ্রমণ হলেও ভ্রমণ মানুষের সুদূর বিলাসী জিনিস। সবাই ভালবাসে সকল  পাহাড়, সাগড়, বন পেরিয়ে পথ খুঁজে জীবন আজীবন বেড়াতে। কিন্তু আমি এখনও সে পথ খুজে পাইনি তাই আমার মনের সাধ মেটেনি।

শিক্ষা সফরে ভ্রমণের কৌতুহল:

আমার জীবনে সবে মাত্র ১৪ টি ক্যালেন্ডার অতিক্রান্ত হয়েছে। এরই মাঝে লোকমুখে বর্ণিত ভ্রমণের অভিজ্ঞতা, পাঠ্যপুস্তকে রঙিন ছবি এবং নদ-নদী পাহাড়-পর্বত সমুদ্র এর কথা শুনেছি। আরও শুনেছি রাজার কাহিনী স্মৃতিস্তম্ভ ঐতিহাসিক উপাদান প্রভৃতি গল্পে মনকে স্থির রাখতে না পেরে যেন বারে বারে এক কল্পনার উদয় ঘটেছে হৃদয়ে। তারি মাঝে হঠাৎ শিক্ষকদের  কাছ থেকে শিক্ষা সফরে ভ্রমণে যাওয়ার প্রস্তাব যেন উদ্দেশ্যে যেন বাস্তব রূপ নিতে চলেছে। এই কৌতুহলকে বাস্তবে দৃষ্টি নিক্ষেপ করার লক্ষ্যে ভ্রমণ হয়ে উঠেছিল এক অফুরন্ত কৌতুহল।

শিক্ষা সফরে ভ্রমণের স্থান নির্ধারণ:

ভ্রমণের স্থান নির্ধারণ করা ছিল আমাদের কাছে অনেক কঠিন একটি কাজ। ইতিহাস স্যারের কাছে ঢাকা সোনারগাঁও এর গল্প শুনেছি এর আগে। স্যারের প্ররোচনায় এবং অভিভাবকদের মতামত নিয়ে আমরা  ঢাকার সোনারগাঁও নির্ধারণ করলাম। মার্চের ১৭ তারিখে স্থির হল আমাদের ভ্রমণে তারিখ।

শিক্ষা সফরের যাত্রা শুরু:

মার্চের ১৭ তারিখ সকাল সাতটা নাবজতেই আমরা সকলে স্কুল প্রাঙ্গণে উপস্থিত হলাম। সকাল সাড়ে সাতটায় আমাদের বাস যাত্রা শুরু করলো।  আমাদের অভিভাবকদেরকে আমরা বিদায় জানালাম এবং খুশিমনে সোনারগাঁর দিকে যাত্রা শুরু করলাম। যাত্রা শুরু করতেই মনে হচ্ছিলো সোনারগাঁয়ে শিক্ষা সফরের অভিজ্ঞতা আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ্য ভ্রমণ অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে।

সোনারগাঁও এর ইতিহাস:

সোনারগাঁ লোকশিল্প জাদুঘর (আমার শিক্ষা সফরের অভিজ্ঞতা) ছবি-httpsen.wikipedia.org
সোনারগাঁ লোকশিল্প জাদুঘরে আমার শিক্ষা সফরের অভিজ্ঞতা। ছবি-en.wikipedia.org

শিল্পকলা সংস্কৃতির এক গৌরবময় জনপদ ছিল সোনারগাঁও । প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বেষ্টিত নৈসর্গিক পরিবেশ ছিল এখানে। বাংলার প্রাচীন রাজধানী হচ্ছে সোনারগাঁও। প্রাচীন রাজধানী সোনারগাঁওয়ে নামটির উদ্ভব ঘটেছে সুবর্ণগ্রাম থেকে। তবে অনেকের মতে বারোভূঁইয়ার প্রধান ঈশা খাঁ স্ত্রী সোনাবিবির নামে সোনারগাঁও এর নামকরণ করা হয়েছে। আনুমানিক ১২৮৭ খ্রিস্টাব্দে এই অঞ্চলে মুসলিম আধিপত্যের সূচনার পর আওরঙ্গজেবের আমলে বাংলার রাজধানী ছিল সোনারগাঁও। পরবর্তীতে বাংলার রাজধানী ঢাকা ঘোষণা করা হয়। যদিও তখন প্রাচীন এ রাজধানীর নাম পানাম নামেই পরিচিত ছিল। বর্তমানে সোনারগাঁও নারায়ণগঞ্জ জেলার একটি উপজেলা।

সোনারগাঁ গিয়ে যা যা দেখলাম:

সোনারগাঁওয়ে রয়েছে বেশ কিছু দর্শনীয় স্থান। তার মধ্যে অন্যতম হলো লোক ও কারুশিল্প জাদুঘর, জয়নুল আবেদীন স্মৃতি জাদুঘর, পানাম সিটি ও বাংলার তাজমহল। বাংলার তাজমহল এখান থেকে কিছুটা দূরে এছাড়া ছাড়া বাকি জায়গা গুলো খুবই কাছাকাছি।

সোনারগাঁ কেন বিখ্যাত:

প্রাচীন বাংলার বিখ্যাত জনপদ সহস্রা বছরের ইতিহাস হল সোনারগাঁ। বাংলাদেশের প্রাচীনতম রাজধানীর নাম সোনারগাঁ। লোকশিল্প জাদুঘর এর জন্য সোনারগাঁ বিখ্যাত। এখানে উৎপাদিত মসলিন কাপড় একসময় গোটা বিশ্বে বিখ্যাত ছিল। এই কাপড় এত সূক্ষ্ম সুতার তৈরি হতো যে মসলিনের তৈরি একটি বড় ধরনের চাদর দিয়াশলাইয়ের প্যাকেটে ঢুকিয়ে রাখা যেত। সোনারগাঁর গৌরব গাথাঁ আরো অনেক আছে। ইতিহাস থেকে জানা যায় সোনারগাঁ যখন শহর ছিল তখন ঢাকা গ্রাম ছিল ।

সোনারগাঁয়ে শিক্ষা সফরের অভিজ্ঞতা:

সোনারগাঁও এই দেশের একটি ঐতিহ্যবাহী নিদর্শণ। বাংলাদেশের প্রাচীনতম রাজধানীর সোনারগাঁও। সোনারগাঁও লোকশিল্প জাদুঘর বিশ্ব বিখ্যাত। এখানে দেশ-বিদেশের অনেক মানুষ ঘুরতে আসে। তারা জাদুঘর ও এর বিচিত্র রূপ দেখে মুগ্ধ হয়ে প্রশংসা করে। যা বাংলাদেশের জন্য অনেক গৌরবের। সোনারগাঁয়ে শিক্ষা সফরের অভিজ্ঞতা আমার স্মরণীয়।

সোনারগাঁও সম্পর্কে আরও জানতে:

কিউআইএসআই গুরুকুল সাইটটি ব্যবহার করায় আপনাকে ধন্যবাদ। আমাদের সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে “যোগাযোগ” আর্টিকেলটি দেখুন, যোগাযোগের বিস্তারিত দেয়া আছে।

 

মন্তব্য করুন