ডিপ্লোমা ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স, বাকাশিবো

প্রোগ্রামের নাম : ডিপ্লোমা ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং
মঞ্জুরি / অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ : বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড [ বাকাশিবো ]
ট্রেডের নাম: সিভিল টেকনোলোজি
কোর্সের মেয়াদ: ৪ বছর
কারিক্যুলাম কোড: ১৫
প্রযুক্তি কোড: ৬৪

ডিপ্লোমা ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স, বাকাশিবো

ডিপ্লোমা ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স এর উদ্দেশ্য [ OBJECTIVE ] :

সিভিল টেকনোলজি হল ইঞ্জিনিয়ারিং পেশার পুরাতন ও অন্যতম শাখা যার বাংলা অর্থ পুরকৌশল বিদ্যা । সঙ্গত কারনেই সারা পৃথিবীর টেকনোলজি বিদ্যায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের পছন্দের তালিকায় থাকে এই শাখাটি। স্বপ্ন যাদের নির্মাণ করার তাদের জন্যই পুরকৌশল । ১৭৪৭ সালে প্রথম ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপিত হয় ফ্রান্সে, যার নাম ”দি ন্যাশনাল স্কুল অব ব্রিজেস এন্ড হাইওয়েজ” । তখন একজন প্রকৃত ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যাকে ডাকা হতো, তার নাম “ জন স্মিটন”। টেকসই উন্নয়নের জন্য অবকাঠামো নির্মাণ ও রক্ষনাবেক্ষন করতে মাঠ পর্যায়ে যারা ব্যাপক কর্মকান্ডে সক্রিয়ভাবে অবদান রাখেন, তারাই সিভিল ইঞ্জিনিয়ার।

প্রাচীনতম প্রকৌশল শাখাগুলির মধ্যে একটি হিসাবে বিবেচিত, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কাঠামোগত কাজের পরিকল্পনা, নকশা এবং নির্বাহের সাথে জড়িত। পেশাটি বিভিন্ন ধরণের ইঞ্জিনিয়ারিং কাজের সাথে কাজ করে যার মধ্যে রাস্তা, সেতু, টানেল, ভবন, বিমানবন্দর, বাঁধ, জলের কাজ, পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, বন্দর ইত্যাদির মতো সরকারী কাজের নকশা, তত্ত্বাবধান এবং নির্মাণ কার্যক্রম সহ বিভিন্ন ধরণের প্রকৌশল কাজ করে এবং প্রচুর চ্যালেঞ্জিং ক্যারিয়ারের সুযোগ দেয়। . একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ার একটি প্রকল্পের পরিকল্পনা এবং ডিজাইন, প্রয়োজনীয় স্কেলে প্রকল্পটি নির্মাণ এবং পণ্যটির রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দায়ী।

একজন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারের জন্য শুধুমাত্র প্রকৌশল জ্ঞানের উচ্চ মানের নয় বরং তত্ত্বাবধায়ক এবং প্রশাসনিক দক্ষতাও প্রয়োজন। তারা একটি নির্মাণ সাইটের তত্ত্বাবধায়ক বা পরিচালক পদে বা নকশা, গবেষণার পাশাপাশি সরকারী পরিষেবা বা ব্যক্তিগত উদ্বেগের বিষয়ে শিক্ষাদানে কাজ পেতে পারে। তারা স্বাধীন পরামর্শদাতা হিসেবেও কাজ করতে পারে।

প্রথমে ভিডিওটি দেখে নিন।

 

 

ডিপ্লোমা ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স এ যা শেখানো হয় [ LEARNING OUTCOMES] :

পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে সিভিল টেকনোলজিতে সড়ক, দালানকোঠা, ব্রীজ,জনপথ, হাইড্রলিক, স্ট্রাকচার, কালভার্ট, স্যানিটেশন, পানি সরবরাহ ইত্যাদির জরিপ কাজ নির্মাণ কৌশল ও রক্ষনাবেক্ষন সম্পর্কে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক জ্ঞান প্রদান করা হয়।

সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং যে শাখা গুলো নিয়ে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং এ আলোচনা করা হয় –

  • Structural Engineering
  • Transportation Engineering
  • Geo technical Engineering
  • Environmental Engineering
  • Water Resource Engineering
  • Construction Engineering

ডিপ্লোমা ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স করে পেশার সম্ভাবনা [ CAREER PROSPECTS ]:

চাহিদার কথা বলতে গেলে বলতে হয় “যতদিন রইবে নির্মাণ ততদিন সিভিলের প্রয়োজন রবে অম্লান” পুরকৌশল তেমনি একটি বিষয় যার প্রয়োজন ছিল, আছে এবং থাকবে। সিভিলের টেকনোলজির প্রয়োজনীয়তা বা চাহিদা উল্লেখ করার মত তেমন কিছুই নেই যদি আপনি আপনার চারপাশে একটু খোঁজ খবর রাখেন তাহলে সহজেই বুঝে যাবেন সিভিলের চাহিদা কতখানি।

সিভিল ইঞ্জিনিয়ারদের কাজ হল নকশা এবং নির্মাণ করা আর সেই কাজ এর ক্ষেত্র গুলো হল রাস্তাঘাট, বিমানবন্দর, সেতু, সুড়ঙ্গ, পানি সরবরাহ এবং নিস্কাশন ব্যবস্থা, বাঁধ, রেলপথ, ফেরিঘাট, বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা, ভবন এমনকি নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট ও এই শাখার বাইরে না ।

সাব এসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে চাকরির সুযোগঃ

  • সড়ক ও জনপদ বিভাগ
  • এলজিইডি
  • পানি উন্নয়ন বোর্ড
  • বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ বিআরটিএ
  • সিটি করপোরেশন
  • সেনাবাহিনী
  • ইউনিভার্সিটির ইঞ্জিনিয়ারিং সেকশন
  • আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানী লিঃ.
  • ওয়েষ্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিঃ
  • পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিঃ
  • ডিপার্টমেন্ট অফ পাবলিক হেলথ ইঞ্জিনিয়ারিং
  • স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর
  • শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর
  • দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর
  • বিভিন্ন বন্দর
  • বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিমিটেড বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ
  • শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক:
  • সরকারি পলিটেকনিক ইনিস্টিটিউট
  • সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ
  • টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার

বিভিন্ন প্রাইভেট সেকটরেঃ

  • ইঞ্জিনিয়ারিং ফার্ম
  • কন্সট্রাকশন ফার্ম
  • কনসাল্টেন্সি ফার্ম

সিভিল ইঞ্জিনিয়াররা সরকারী বিভাগ, বেসরকারী এবং সরকারী খাতের শিল্প, গবেষণা ও শিক্ষাদানকারী প্রতিষ্ঠান ইত্যাদিতে চাকরি পেতে পারেন। সিভিল ইঞ্জিনিয়ারদের চাকরির সুযোগ সকল চাকরির গড় হিসাবে দ্রুত বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে, যদিও নির্মাণ শিল্প অর্থনীতিতে ওঠানামার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। . বিদ্যমান সুযোগ-সুবিধা ও কাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত এবং নতুন নির্মাণের জন্য সিভিল ইঞ্জিনিয়ারদের সবসময় প্রয়োজন হবে। ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং করার পরে, কেউ রাস্তার প্রকল্প, নির্মাণ কাজ, পরামর্শদাতা সংস্থা, গুণমান পরীক্ষাগার বা হাউজিং সোসাইটিতে চাকরি খুঁজতে পারেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উন্নত দেশগুলোতে অভিজ্ঞ সিভিল ইঞ্জিনিয়ারের চাহিদা বেশি।

ডিপ্লোমা ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সের মূল্যায়ন যেভাবে হয় [ DURATION & ASSESSMENT ]

সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং  ডিপ্লোমা তো মোট ৮ টি সেমিস্টার (১ সেমিস্টার = ৬ মাস) নিয়ে গঠিত ৪ বছরের দীর্ঘ প্রোগ্রাম। প্রতিটি সেমিস্টারের চূড়ান্ত ও মাধ্যমিক পরীক্ষা বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের (বিটিইবি) তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। সমস্ত পরীক্ষার প্রশ্ন, উত্তর স্ক্রিপ্ট পরীক্ষা এবং চূড়ান্ত ফলাফল BTEB দ্বারা প্রকাশিত হয়। এর পাশাপাশি প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে নিয়মিত ক্লাস টেস্ট, কুইজ টেস্ট এবং সেমিস্টার ফাইনাল প্রজেক্টে অংশগ্রহণ করতে হবে। সফলভাবে সমাপ্তির পরে, একজন শিক্ষার্থী বিটিইবি থেকে প্রকৌশলে ডিপ্লোমা সার্টিফিকেট পাবেন।

ডিপ্লোমা ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সের একাডেমিক সেশন [ ACADEMIC SESSION ]:

এসএসসি ফলাফলের পর ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হয়। বছরে একটিই ব্যাচ হয়। শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত ভর্তি বিজ্ঞপ্তি অনুসরণ করতে হয়। সাধারণত মে মাসের পরে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হয় (এসএসসি ফলাফলের উপর নির্ভর করে)।

ডিপ্লোমা ইন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স এর ভর্তি যোগ্যতা [ ADMISSION ELIGIBILITY ]:

  • ন্যূনতম এসএসসি/সমমান পাস
  • সাধারণ গণিতে ন্যূনতম জিপিএ ২.৫ এবং ৪০% নম্বর
  • বয়স এবং SSC পাশ করার বছরের জন্য কোন সীমাবদ্ধতা নেই

তবে বোর্ড কখনো কখনো সার্কুলারের মাধ্যমে পরিবর্তন করে। তাই প্রতিবার ভর্তির আগে ভর্তির যোগ্যতার শর্ত ভালো ভাবে দেখে নিতে হবে।

আরও পড়ুন:

 

 

মন্তব্য করুন